প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার দশম বৈঠক ছবি: সংগৃহীত
সরকার অনলাইন জুয়া, পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি এবং মাদকসংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে একাধিক নতুন ও সংশোধিত আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া উপস্থাপন করে। সরকার জানিয়েছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে দেশে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ধরনের জুয়া কার্যক্রম দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় পুরনো ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ সংশোধন করে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনে জুয়া খেলা, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড কিংবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) সংশোধনী আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস, ফলাফল পরিবর্তন এবং বিভিন্ন পরীক্ষাজালিয়াতির ঘটনা বাড়ায় বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নতুন সংশোধনীতে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় অবৈধভাবে হস্তক্ষেপকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ পরীক্ষাজালিয়াতির ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সভায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, আইন, ব্যবসা প্রশাসন, সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
একই বৈঠকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সংশোধনীতে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার স্পেসে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ দমন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক শনাক্তে বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনগুলো এখন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী ধাপে পাঠানো হবে।
