চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত পাকিস্তানের হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে বলে ভারতের গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় পর আবারও বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চীনে নির্মিত নতুন হাঙ্গর শ্রেণির একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন সম্প্রতি পাকিস্তানে পৌঁছেছে। এর পরপরই পাকিস্তান নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বঙ্গোপসাগরে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন পাওয়া এই সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচি বন্দরে পৌঁছায়। এটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন এই সাবমেরিন শুধু আরব সাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ইসলামাবাদের।
সাবমেরিন বহর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক বলেন, নতুন হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানের জন্য একটি বড় সামরিক সক্ষমতা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দেশটি বঙ্গোপসাগরেও কার্যকরভাবে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারবে।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান নৌবাহিনীতে একই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বহর পুরোপুরি প্রস্তুত হলে পাকিস্তানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে বহরটি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে অবস্থান করে। সেখানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন শুধু নিজস্ব উপকূল রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ভারত মহাসাগরে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে দেশটি।
অন্যদিকে গত কয়েক দশকে ভারত তার নৌ সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং অত্যাধুনিক সমুদ্র নজরদারি প্রযুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন হয়তো সরাসরি সামরিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারবে না, তবে বঙ্গোপসাগরে তাদের উপস্থিতি ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
