ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বছর নতুন নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। সামান্য কিছু নতুন ফিচার, উন্নত ক্যামেরা বা ঝকঝকে ডিজাইনের কারণে অনেকেই দ্রুত ফোন বদলে ফেলেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক যত্ন নিলে একটি স্মার্টফোন অনায়াসেই কয়েক বছর ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে যেমন অযথা খরচ কমবে, তেমনি কমবে ইলেকট্রনিক বর্জ্যও।
ফোন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞরা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
১. ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখুন
ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী রাখতে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জ না করে ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ রাখলে ব্যাটারির আয়ু বাড়ে। অনেক নতুন ফোনে এখন ‘অপটিমাইজড চার্জিং’ সুবিধাও রয়েছে।
২. ফোন সুরক্ষিত রাখুন
স্ক্রিন প্রটেক্টর ও ভালো মানের কভার ব্যবহার করলে ফোন পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। এতে স্ক্রিন ভাঙা, দাগ পড়া বা বডি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
৩. নিয়মিত পরিষ্কার করুন
চার্জিং পোর্ট, স্পিকার গ্রিল ও ফোনের স্ক্রিনে ধুলাবালি জমে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত নরম কাপড় বা উপযুক্ত উপকরণ দিয়ে ফোন পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
ফোনের সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেট নিয়মিত ইনস্টল করা জরুরি। এতে নতুন ফিচার যোগ হওয়ার পাশাপাশি ফোন সাইবার ঝুঁকি থেকেও সুরক্ষিত থাকে।
৫. স্টোরেজ ব্যবস্থাপনায় নজর দিন
অতিরিক্ত ছবি, ভিডিও, গেম বা বড় ফাইল ফোনের গতি কমিয়ে দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলা এবং ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৬. নতুন কেনার আগে মেরামতের কথা ভাবুন
ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাওয়া বা স্ক্রিন ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যায় অনেকেই নতুন ফোন কেনেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারি বা স্ক্রিন বদলালেই ফোন আবার দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, “সঠিক যত্ন নিলে প্রতি দুই বছর পরপর ফোন বদলানোর প্রয়োজন পড়ে না। বরং একটি স্মার্টফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করাই হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত।”
