প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম | ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে এলাকায় আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ৯ জুন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও বগুড়া জেলা প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত ও মতামত চায়। নির্দেশনায় বলা হয়, বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সংশ্লিষ্ট তদন্তের দায়িত্ব দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে। তদন্ত শেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া জমির ওপর গড়ে উঠেছে। তবে স্থানীয় অনেকেই দাবি করছেন, এত পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম কেন পরিবর্তন করা হবে, সেটি এলাকাবাসীর কাছে পরিষ্কার নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের দাবি জানানো হচ্ছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্তে ঠিক করে, কেউ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণে সহায়তা করলে তার নামেই নামকরণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী সরকারিকরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলেই তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের পরিবার ও বংশের সদস্যদের নামে কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ করায় দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ইতোমধ্যে সেই নতুন ইউনিয়নগুলোতে প্রশাসকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ এই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও সামাজিক ও স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর।
