বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা ও নানা গুঞ্জন পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অনুমাননির্ভর আলোচনা বা অপ্রয়োজনীয় স্পেকুলেশন থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ে ধৈর্য ধরে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর প্রধান কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর জানান, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিভিন্ন মহলে যেভাবে আলোচনা চলছে, তা ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক নয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের ব্যাংকগুলো পরিচালনায় বিদ্যমান আইনই অনুসরণ করা হবে এবং কোনো সিদ্ধান্ত আইনের বাইরে গিয়ে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে কয়েকটি ব্যাংককে মোট ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেই সহায়তার পরিমাণ বেড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম চার মাসে কোনো ব্যাংককে অতিরিক্ত তারল্য সহায়তা দিতে হয়নি। শুধু Islami Bank Bangladesh PLC-কে ১৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতিতে লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ।
