ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এক বিতর্কে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে ফিফা। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের মাতৃভাষা বা পরিচিত ভাষায় কথা বলতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
বিশেষ করে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মরক্কোর ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে চাইলে তাদের ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় ফিফা। ব্রাজিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানায়, এখন থেকে বিশ্বকাপের সব সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড় ও কোচরা স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলার সুযোগ পাবেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে একজন স্প্যানিশ ভাষার অনুবাদক রাখা হবে, যাতে সাংবাদিক, কোচ এবং খেলোয়াড়দের যোগাযোগ আরও সহজ হয়। একই সঙ্গে ফিফার অফিসিয়াল অ্যাপেও স্প্যানিশ ভাষা অনুবাদের সুবিধা দ্রুত যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্প্যানিশ ভাষাভাষী দর্শক এবং আয়োজক দেশের প্রতি সম্মান দেখাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে ফিফাকে।
এর আগে শুধুমাত্র যেসব দলের প্রধান ভাষা স্প্যানিশ, তারাই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এই ভাষা ব্যবহারের অনুমতি পেত। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি।
ফিফা জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা পুরোপুরি কার্যকর করতে কিছু সময় লাগতে পারে। তবে এখন থেকে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ভাষার ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিতর্কের পর ফিফার জন্য এটি ছিল সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। নতুন এই পদক্ষেপ বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এখন মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনেও বহুভাষিক পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আবেদন আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
