ছবি: সংগৃহীত
কুরবানির ঈদে ভোজনরসিক বাঙালিদের ঘরে ঘরে মাংসের নানা পদের আয়োজন থাকে। এ সময় অনেকেই পছন্দের খাবার অতিরিক্ত খেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধি করতে না পারলেও পরবর্তীতে জটিল আকার ধারণ করে। আবার উচ্চ প্রোটিন ও চর্বিযুক্ত মাংসের রকমারি খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঈদের আনন্দ ও রসনাবিলাস বজায় রেখে শরীরকে সম্পূর্ণ পুষ্টিকর ও চাঙা রাখবেন কীভাবে, তার বিজ্ঞানসম্মত দিকনির্দেশনা নিয়ে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন নেসলে বাংলাদেশের পুষ্টিবিদ রাজিয়া সুলতানা। রকমারি খাবারের ভিড়েও সুস্থতা বজায় রাখতে পরামর্শ জানিয়েছেন এ পুষ্টিবিদ।
➤ রান্নার পুষ্টিগুণ ও রন্ধনশৈলী:
মাংসের পুষ্টিগুণ বজায় রেখে ক্ষতিকর চর্বি এড়াতে রান্নার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। নিম্নে এসব আলোচনা করা হলো।
ভিটামিন-সি’র ব্যবহার: মাংস রান্নার সময় বা ম্যারিনেশনে লেবুর রস, টকদই বা পেঁপে বাটা ব্যবহার করুন। ভিটামিন-সি মাংসের আয়রন (Iron) শরীরে শোষণ করতে দারুণ সাহায্য করে।
অতিরিক্ত মশলা বর্জন: অতিরিক্ত তেল ও ঝাল মশলা দিয়ে মাংস কষালে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং লিভারের ওপর চাপ পড়ে। হালকা মশলায় স্টু, স্যুপ বা বেকড (Baked) করে খেলে মাংসের আসল পুষ্টি পাওয়া যায়।
চর্বি গলানোর কৌশল: মাংস সেদ্ধ করার পর উপরের জমে থাকা তেলের স্তরটি চামচ দিয়ে ফেলে দিন। এতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কমে যায়।
➤ খাবারের প্লেটে পুষ্টির ভারসাম্য (Nutritional Balance):
শুধু মাংস না খেয়ে প্লেটটিকে একটি সুষম খাবারের থালায় রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে খাবারের উপাদান, আদর্শ অনুপাত ও শরীরের ওপর প্রভাব পড়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য খাদ্যতালিকা যেমন হওয়া উচিত তা হলো- গরুর মাংস ২৫ শতাংশ (৩-৪ টুকরো), পেশি গঠন ও আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। লাল চালের ভাত বা রুটি ২৫ শতাংশ, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়। কাঁচা সালাদ ও সবজি ৫০ শতাংশ। কারণ, আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হজমে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল কমায়।
➤ হজমপ্রক্রিয়া ও মেটাবলিজম উন্নত করার উপায়:
আঁশযুক্ত খাবারের দুর্দান্ত কার্যক্রম: মাংসের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ ইসবগুলের ভুষি, শসা, লেবু এবং পুদিনা পাতা রাখুন। এগুলো মাংসের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলকে রক্তে মিশতে বাধা দেয় এবং শরীর থেকে বের করে দেয়।
প্রোবায়োটিকস (Probiotics): খাবার খাওয়ার আধ ঘণ্টা পর এক বাটি টকদই বা ঘরে তৈরি জিরা-বোরহানি খান। এর মধ্যকার ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং পেট ফাঁপা দূর করে।
গ্রিন টি বা আদা চা: ভারী খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর এক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি বা আদা-লেবুর চা পান করুন। এটি মেটাবলিজম বুস্ট করে চর্বি জমতে দেয় না।
সবশেষ বিশেষ সতর্কবার্তা হিসেবে পুষ্টিবিদ রাজিয়া সুলতানা বলেন, যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো সমস্যা আছে, তারা মাংসের ‘লাল অংশ’ (Lean meat) চর্বি ছাড়া অল্প পরিমাণে খাবেন এবং মগজ, কলিজা বা চর্বিযুক্ত অংশ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলবেন। ঈদের এই সময় মাংসের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল বা হালকা কোনো ডেজার্ট রাখার কথাও জানিয়েছেন এ পুষ্টিবিদ।
