মহেন্দ্র সিং ধোনি ও থালাপাতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় তথা থালাপতি বিজয় বিধানসভা নির্বাচনে পেয়েছেন অবিস্মরণীয় জয়। তাই এই ব্যাপারটিকে এখন ইতোমধ্যেই সিনেমার ব্লকবাস্টারের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে তার এই জয়ে ভক্তদের একাংশ দেখছেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’ মহেন্দ্র সিং ধোনির কৌশলগত ছাপ।
তামিলাড়ুর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়ে পাঁচটি শিরোপা জিতিয়েছেন ধোনি। ঝাড়খন্ডে জন্ম নিলেও তাই চেন্নাইতে তুমুল জনপ্রিয় ধোনি। আর বিজয়ের দল টিভিকে’র (তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম) সাফল্যের পেছনে আছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর (বিহারে জন্ম নেয়া জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা)। তিনি যখন গত বছর বিজয়ের দল টিভিকে’র সঙ্গে যুক্ত হন, তখনই তিনি সাফল্যের জন্য একটি ব্যতিক্রমী মানদণ্ড স্থির করেছিলেন।
প্রশান্ত বলেছিলেন, ‘তামিলনাড়ুতে আমাকে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারি হতে হবে। সেটা করতে হলে আমাকে ধোনির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে, যিনি সিএসকেকে জেতান। আমি আপনার নেতার নেতৃত্বে টিভিকেকে জেতাব।’
ধোনির নাম উল্লেখ করে প্রশান্ত যেমন প্রত্যাশার মাত্রা বাড়িয়েছিলেন, তেমনি রাজ্যে ধোনি-ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হন।
দুজনের এই সংযোগের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক ছিল টিভিকের নির্বাচনি প্রতীক ‘হুইসেল’। তামিল ভোটারদের কাছে এই হুইসেল সিএসকের জনপ্রিয় ‘হুইসেল পোডু’ স্লোগানের সঙ্গে ওপপ্রোতভাবে জড়িত। পুরো নির্বাচনি প্রচারে টিভিকের জনসভাগুলো অনেকটা চিপক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সিএসকে সমর্থকদের জমায়েতের মতোই মনে হয়েছে।
অনেক প্রথমবারের ভোটারের কাছে ক্রিকেট মাঠে ‘থালা’ (ধোনির ডাকনাম)-কে সমর্থন করা থেকে ভোটকেন্দ্রে ‘থালাপতি’ (বিজয়)-কে ভোট দেয়ার মতোই মনে হয়েছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে টিভিকে যখন ১০০ আসন অতিক্রম করে, তখন বিজয়ের ‘রাজনৈতিক ফিনিশিং’ অনেকটাই ধোনির ম্যাচ শেষ করার দক্ষতার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
তবে ‘ধোনি ফ্যাক্টর’-এর সঙ্গে এসেছে ধোনি-সুলভ একটি চ্যালেঞ্জও। ১০৮টি আসন নিয়ে বিজয় এখনো ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন ‘সুপার ওভার’-এর মতো পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জোট গঠন ও আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে।
