শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে বিক্ষোভ করছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে করা বক্তব্যের প্রতিবাদে পাবনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৃথক দুটি কর্মসূচি থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কয়েকজন নেতার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শহরের থানা রোড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান, সদস্য সচিব কমল শেখ টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক দীপঙ্কর সরকার জিতু, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক এস এম আদনান উদ্দিন এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ বাদশাসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার পাবনা সফরের সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং একই দিনে নাটোরে আয়োজিত এক সমাবেশে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন। তারা এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পাবনায় এনসিপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবিও উত্থাপন করেন।
এর আগে শনিবার সকালে একই ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের নির্দেশনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবি এম ফজলুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক এস এম আদনান উদ্দিন, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সমন্বয়ক ইউসুফ আরফান বিপ্লব, পৌর জাসাসের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম হীরা, সদর উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম তরু এবং আটঘড়িয়া উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব ফয়সাল আবু জারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া উচিত। তারা দাবি করেন, কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান তারা।
