ছবি: সংগৃহীত
কানাডার অর্থনীতিতে আকস্মিক মন্দার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দেশটির বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৫৫.২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ায় এই ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন খাতে সরকারি কর্মসূচির ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মোট প্রোগ্রাম ব্যয় ১.৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধ ব্যয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কর ও শুল্ক থেকে আয় বাড়লেও তা ব্যয়ের চাপ সামাল দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সরকারি ব্যয় এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার চাপ আগামী মাসগুলোতে কানাডার আর্থিক নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর আমেরিকার এই দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে মন্দার মুখে পড়েছে। টানা দুই প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হওয়ায় অর্থনীতিবিদরা একে ‘টেকনিক্যাল রিসেশন’ বা প্রযুক্তিগত মন্দা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতি ০.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতি ১ শতাংশ কমেছিল। অথচ বিশ্লেষকরা প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কানাডার অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমেছে, কর্মসংস্থানের গতি শ্লথ হয়েছে এবং ভোক্তাদের আস্থাও দুর্বল হয়েছে।
কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এপ্রিল মাসে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা আগামী মাসগুলোতে অঅর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ শুল্কনীতির ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে কানাডার অর্থনীতি কত দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। অন্যদিকে ব্যাংক অব কানাডা জানিয়েছে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন ঝুঁকি ও দুর্বলতা বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৬ সালের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, কানাডার ব্যাংকগুলো ধাক্কা মোকাবিলায় আগের তুলনায় বেশি সক্ষম। তবে শেয়ারবাজারের উচ্চ মূল্যায়ন, করপোরেট ঋণ বৃদ্ধি এবং হেজ ফান্ডগুলোর অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বিনিয়োগ নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংক অব কানাডা সতর্ক করে বলেছে, একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে সক্রিয় হলে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
