কুয়ালালামপুরে রয়েছে এস আলমের বিলাসবহুল হোটেল। ছবি: সংগৃহীত
সাইপ্রাসে সম্পত্তি জব্দের পর বাড়ছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান, কুয়ালালামপুরের দুই অভিজাত হোটেলও আসতে পারে নজরদারিতে
দেশের বহুল আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন তার বিদেশে গড়ে ওঠা সম্পদ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে তার আর্থিক কর্মকাণ্ড ও বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দেশটির বিভিন্ন খাতে তার সম্পদের পরিমাণ শত কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে নতুন করে নজরে এসেছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল হোটেল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এই দুটি হোটেল দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেল দুটির মালিকানা রয়েছে একটি সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে, যার সঙ্গে এস আলম গ্রুপের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় এক দশক আগে কয়েকশ কোটি মালয়েশিয়ান মুদ্রার বিনিময়ে এসব সম্পত্তি ক্রয় করা হয়েছিল।
যদিও এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এসব সম্পদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক তদন্তের বিস্তার যেভাবে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে এই সম্পদগুলোও পর্যবেক্ষণের আওতায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ২১ ও ২২ জুন তার কুয়ালালামপুর সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
উল্লেখ্য, শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং চাকরির নিশ্চয়তা না থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ সরকার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, কুয়ালালামপুরে আলোচিত দুটি হোটেলে মোট ৯ শতাধিক কক্ষ রয়েছে। কয়েক বছর আগে সম্পদ দুটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় একশ পঁচিশ কোটি মালয়েশিয়ান মুদ্রা। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এর মূল্য কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকার সক্রিয় হলে এস আলম গ্রুপের আন্তর্জাতিক সম্পদ সাম্রাজ্য আগামী দিনে আরও বড় তদন্তের মুখোমুখি হতে পারে।
